আবদুর রশিদ, নাইক্ষ্যংছড়ি;

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে চরম অনিয়মের চিত্র দেখতে পেয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. এনামুল হাসান। পাঠদানের নির্ধারিত সময়ে বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষক উপস্থিত না থাকা এবং সব শ্রেণিকক্ষ তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়ায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত রেজু নতুনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও রেজু হেডম্যানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আকস্মিক পরিদর্শনে যান ইউএনও।

পরিদর্শনকালে দেখা যায়, বিদ্যালয় দুটির প্রাঙ্গণ প্রায় জনশূন্য। কোনো শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন না। এমনকি শ্রেণিকক্ষগুলোও তালাবদ্ধ অবস্থায় থাকায় পাঠদান কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল।

এমন পরিস্থিতি দেখে ইউএনও মো. এনামুল হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং ঘটনার তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে বিদ্যালয়গুলোতে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

বিদ্যালয় দুটির এমন পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবকরা। তাদের অভিযোগ, শিক্ষকদের দায়িত্বহীনতা ও অনিয়মের কারণে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে রেজু নতুনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুক মাহমুদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অপরদিকে রেজু হেডম্যানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আকাশ বড়ুয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আশীষ চিরান বলেন, “ঘটনার বিষয়ে দুই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের মতে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করলেও দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের কারণে অনেক ক্ষেত্রে তা ব্যাহত হচ্ছে। তাই শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।